এগুতে হলে জানতে হবে উদ্যোক্তা জীবনের গল্প : পলক

১ অক্টোবর, ২০২৩ ১২:২৮  

উদ্যোক্তাদের অভিযাত্রার গল্প না জানলে কেনো উদ্যোগই এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আর সে লক্ষ্যেই সম্ভাবনাময়ী উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন; প্রশিক্ষণ; ইনকিউবেশন ও নেটওয়ার্কিং- এই চারটি মৌলিক চাহিদা পূরণে সবগুলোই সরকারের আইডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে অন্তত পাঁচটি বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি গড়ে উঠবে এবং তরুণদের জন্য হাজার হাজার নতুন চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পলক।

নবীন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, আপনি যদি স্টার্টআপ যাত্রার গল্প সম্পর্কে সচেতন না হন; তবে উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে পারবেন না’।

রোববার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের মাহসা আমিনী ক্যাম্পাসের কনফারেন্স হলে স্টার্টআপ কমপাস ইউনিভার্সিটি অ্যাকটিভেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে উদ্ধৃতি করে পলক বলেন, সিলিকন ভ্যালিতে, মাত্র ১০ শতাংশ স্টার্টআপ সফল হয়। বাকি ৯০ শতাংশ স্টার্টআপ ব্যর্থ হয়। কিন্তু সেই ১০ শতাংশ স্টার্টআপের রিটার্ন ৯০ শতাংশের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। আর ২০১৬ সালে যখন একনেক বৈঠকে আইডিয়া প্রকল্পের পিচ দেয়া হয় তখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের এই ধরনের ব্যর্থ হওয়ার সাহস ও অনুমোদন দেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হতে উৎসাহিত করেছেন। কারণ একজন উদ্যোক্তা হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু একজন কর্মচারী কেবল একটি পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে পারে। এজন্য আমরা আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হতে, তাদের নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য উৎসাহিত করি। সে লক্ষ্যে আমরা ইনোভেশন ডিজাইন এবং এন্টারপ্রেনারশিপ একাডেমি স্থাপন করেছি। এছাড়াও, আমরা চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন শুরু করেছি। এখন, আমরা আরো সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন করছি। সেই থেকে আমরা ৩০০টি বিভিন্ন স্টার্টআপের জন্য কয়েকশ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ স্টার্টআপ গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে সত্যিই দুর্দান্ত কাজ করছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি তোমার একটি সৃজনশীল মন থাকে তবে তুমি তোমার সৃজনশীল ধারণা দিয়ে যেকোনো সমস্য সমাধান করতে পারবে। সব সমস্যাকে তুমি একা সমাধান করতে চেষ্টা করো না। বিশ্বের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি যৌথ প্রচেষ্টা ও অর্থায়নের কারণে সফল হয়েছে। সুতরাং যৌথ প্রচেষ্টা ও অর্থায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্টার্টআপ বাংলাদেশ কোম্পানির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩০টি কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে। যেমন শপআপ, চালডাল, পাঠাও, টেন মিনিটস স্কুল ইত্যাদি।  

এ সময় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হকের সভাপতিত্বে উপ-উপাচার্য ড. ডেভিড টেইলর ও ড. মিজানুর রহমান বক্তব্য দেন।